অপরাজিতা অধ্যায় ২

উপন্যাস: অপরাজিতা
অধ্যায় ২: হাটবারে দেখা


🛖 অধ্যায় ২: হাটবারে দেখা

গ্রামে হাটবার যেন এক উৎসব। চতুর্দিকে কোলাহল, হাঁকডাক, কাঁচা মাটির গন্ধ, আর লোকজনের চাপে গলিপথও হয়ে ওঠে সরু নদী। সেই দিন ছিল বুধবার—বিন্ধ্যাবতী হাট বসেছে নদীর পাড়ে।

অজয় বাবার জন্য গামছা আর একটু নুন কিনতে হাটে এসেছিল। মাথায় গামছা পেঁচানো, হাতে একটা মাটির কলস। পায়ের ধুলো তার সঙ্গী। সে জানত না, আজকের হাটে তার চোখে ধরা দেবে রূপসী—তাকে ঘিরে থাকবে এক অদ্ভুত বিপদ, আর সেই দিন থেকে বদলে যাবে তাদের দুজনের জীবনের গতি।

রূপসী এসেছিল তার মাসির সঙ্গে। জমিদারবাড়ির মেয়ে হলেও মাসির সঙ্গে মাঝে মাঝে সে বাজারে আসে—নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন জীবন দেখতে। কিন্তু আজকের দিনটা আলাদা ছিল। তার চোখে খেলা করছিল অস্থিরতা।

এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা কাঁসার থালা বিক্রেতার পাশে হঠাৎ চোখে পড়ল অজয়ের। সে দাঁড়িয়ে, হাতে একটা কলস ধরছে, আর তার চোখ যেন কারও খোঁজে…

রূপসী কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। তারপর সাহস করে এগিয়ে এসে বলল,
— “তুমি একাই এসেছো?”

অজয় চমকে তাকাল।
— “তুমিও?”
— “হ্যাঁ। মাসির সঙ্গে এসেছি। কিন্তু… একটা সমস্যা হয়েছে।”

রূপসী একটু থেমে বলল, “আমার গলার হারটা কোথাও পড়ে গেছে, খেয়াল করিনি। মাসি সামনে চলে গেছে। আমি খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে গেছি মনে হচ্ছে…”

অজয় বুঝল, জমিদারবাড়ির মেয়ের হার হারিয়ে যাওয়া শুধু ‘সমস্যা’ না—বড় বিপদের সূত্রপাতও হতে পারে।

সে বলল, “চলো, আমি তোমার সঙ্গে খুঁজি। ভয় পেও না, আমি আছি।”

রূপসী নিশ্চুপ। তার চোখে তখন শুধু ভরসা—not রূপসীর জমিদার পরিচয়ের জন্য, বরং সেই অজয়ের জন্য যে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সম্পূর্ণ নীরবে।


✨শেষাংশ (অধ্যায়ের):

হাটের ভিড়ের মাঝখানে এক খোপে পাওয়া গেল সেই হার। অজয় নিজের হাতে তা তুলে দিল রূপসীর দিকে। রূপসী চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে—প্রথমবারের মতো যেন কোনো সামাজিক দূরত্ব গলে গিয়ে হৃদয়ের সত্যি বেরিয়ে এলো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url